আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ চাইল আওয়ামী লীগ

0
64

আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ চাইল স্বয়ং আওয়ামী লীগ। দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারী, অনুপ্রবেশকারী ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা মিজানুর রহমান বাচ্চু ওরফে পাগলা বাচ্চু ও যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিতর্কিত এই দুই নেতার পদত্যাগ দাবিতে একাট্টা হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলটির অঙ্গসংগঠনগুলোও।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে আড়াইহাজার বাজারের দুবাই প্লাজার আড়াইহাজার ক্লাব লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন করেন আড়াইহাজারের উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সকল জনপ্রতিনিধি ও দলীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে নেতাকর্মীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার।

লিখিত বক্তব্যের শুরুতেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু ও যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বলেন, এই দুই নেতার বিরুদ্ধে কর্মীদের দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর নামে অপপ্রচার চালিয়ে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি এ দুজনকে দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার অভাবনীয় উন্নয়নে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুর অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ হলেও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে ছিল অনগ্রসর, পশ্চাৎপদ ও উন্নয়ন বঞ্চিত। পিছিয়ে পড়া এ জনপদ আজ ঈর্ষণীয় মাত্রায় উপরে স্থান করে নিয়ে আধুনিক আড়াইহাজারে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অনেক উপজেলাকেই পেছনে ফেলে আড়াইহাজার অবস্থান করে নিয়েছে উন্নয়নের উচ্চ শিখরে। বিগত ১১ বছরে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আগের গ্রামীণ অবকাঠামোর সেই জরাজীর্ণ চিত্র বদলের কারিগর আড়াইহাজারের সন্তান ও তিনবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু।

আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবুকে ‘উন্নয়নের প্রাণ পুরুষ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে বিস্ময়। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু উন্নয়নের মহাসড়কে নিজ উপজেলাকে সংযুক্ত করেছেন। এমপি বাবুর নেতৃত্ব ও প্রচেষ্টায় আড়াইহাজার উপজেলার কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বলেন, ১১ বছর যাবত শান্তির জনপদ হিসেবে আড়াইহাজার উপজেলার সুনাম রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। দলীয় শৃঙ্খলা পুরোপুরি বজায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হয়নি। এ কারণে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর সুযোগ্য নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে দলীয় নেতাকর্মীরা উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ড মেম্বার পদে আওয়ামী লীগের সব প্রার্থীকে বিজয়ী করার সফলতা অর্জন করে।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠার একজন কর্মী হিসেবে তিনি আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগসহ সব অঙ্গসংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমকে জোরদার করেছেন। একইসঙ্গে প্রত্যেকটি সংগঠনের মধ্যে সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার মাধ্যমে শক্তিশালী করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বলেন, এমপি বাবুর মতো এই সাংগঠনিক নেতার সাংগঠনিক কার্যক্রমে ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্টকারী ও অনুপ্রবেশকারী চক্রের হোতা বিএনপির প্রেতাত্মা দুর্নীতিবাজ ইকবাল পারভেজ ও মিজানুর রহমান বাচ্চু ষড়যন্ত্র করে চলেছেন। জনবিচ্ছিন্ন, এলাকা থেকে বিতাড়িত, অবাঞ্চিত এই দুই ষড়যন্ত্রকারীকে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য মানবতার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আমরা জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য শেষে ইকবাল পারভেজ ও পাগলা বাচ্চুর পরিচিতি ও সকল অপকর্ম তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ইকবাল পারভেজ ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের মুহুরি। পরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সহকারী পরিচালক হয়ে বদলে ফেলেন নিজের ভাগ্য। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা ইকবাল পারভেজের পেশাগত উন্নয়ন প্রশংসার দাবিদার হলেও ওই পাঁচ বছরের চিত্র যেন একটি অবিশ্বাস্য গল্পের আশ্চর্য অধ্যায়! রাজউকের সহকারী পরিচালক হয়ে মাত্র পাঁচ বছরেই হয়েছেন ২শ ১৮ কোটিরও বেশি টাকার মালিক!

এছাড়াও ইকবাল পারভেজের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বিপরীতে সম্পদ অর্জন, প্লট পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অনৈতিক লেনদেন, অর্থের বিনিময়ে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়া, নাম-বেনামে শেয়ার ক্রয়, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যবসা পরিচালনা, দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, পাগলা বাচ্চু স্বাধীনতার আগে ও পরে জাতির জনকের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ছিলেন জাসদ গণবাহিনীর কমান্ডার ছিল। ১৯৭৩ সালে জাসদ থেকে তিনি সংসদ নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। দুর্নীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী জনবিচ্ছিন্ন ইকবাল পারভেজ ও পাগলা বাচ্চু সময়ের খোলস পাল্টিয়ে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেয়। পদ পাওয়ার পর থেকেই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ বসে আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য নানা অপচেষ্টা চালায়। তারা সেখানে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। নামে-বেনামে এমপি বাবুর মতো একজন পরিচ্ছন্ন নেতার বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এই দুই জনবিচ্ছিন্ন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারসহ চলমান শুদ্ধি অভিযানের আওতায় আনারও দাবি জানান দলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, খুরশীদ আলম সরকার, মাহবুবুর রহমান রোমান, আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, গোপালদী পৌরসভার মেয়র এম এ হালিম সিকদার, আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা রহমান, সাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অদুদ মাহমুদ, দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহিদা মোশারফ, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাক মিয়া, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তালেব মোল্লা, বিশনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানউল্যাহ আমান।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—হাইজাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন ভূঁইয়া, উচিৎপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন মোল্লা, খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম, কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আহাম্মেদুল কবির উজ্জল, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন উর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আছলাম পাঠান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সৈয়দ ইসমাইল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন