এ.এম.ফিরোজ এর কবিতা মৃত্যু তালিকা

0
141

মৃত্যু তালিকা
এ.এম.ফিরোজ
——————–
প্রিয়তমা দুঃখ করনা
তুমি চলে গেছ,এই পৃথিবী ছেড়ে
আর আমি,নিঃস্বার্থের মতো
আজও পড়ে আছি এ ধরায়।
প্রিয়তমা,ক্ষমা কর আমায়
শত ইচ্ছা থাকা সত্তেও,
তোমার লাশের পাশে যেতে পারিনি আমি।
তোমার মৃত্যুতে এই ভ্রম্মান্ড কাঁপেনি,
তোমার মৃত্যু একটি ঝরা পাতা
তোমার মৃত্যু একটি তালিকা মাত্র।

জানো প্রিয়তমা,
একটি কষ্ট আমায় আজও কুড়ে কুড়ে খায়,
তোমার শেষ বেলায় আমি চেয়েও পারিনি,
তোমার আলতো চুলে স্পর্শ করতে
তোমার ঐ নরম হাতে শেষ ছোয়া দিতে।

তোমার কি মনে আছে প্রিয়তমা?
একদিন তোমার শরীর কাঁপছিল জরে
অতি ঠান্ডায় তোমার নাক বন্ধ ছিল,
তুমি নিঃশ্বাস নিতে না পেরে
আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদছিলে,সারা শরীর ব্যথায় মুচরাচ্ছিলে,
আমি ঔষধ আনতে গিয়েছিলাম ডাক্তার খানায়
ফিরে এসে তোমাকে আর পেলাম না,
ওরা সেদিনই তোমাকে তুলে নিয়ে গেল
তোমাকে আমাকে আলাদা করে দিল।
জানো প্রিয়তমা,
সেদিন আমার খুব কষ্ট হয়েছিল,
সারারাতের অশ্রু জলে বালিশ ভিজেছিল।

সেদিনের পর থেকে তোমাকে আর দেখা হয়নি,
তুমি রাগ অভিমানে,
পাড়ি জমালে ওপারে।
কিন্তু তুমি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলে,
আমি তোমায় কথা দিয়েছিলাম
তোমাকে ছাড়া একা কখনো থাকবোনা,
আমি আমার কথা রাখবো
তোমার কাছেই ফিরে আসবো।

জানো প্রিয়তমা,
আজ ওরা আমায় তোমার মতো
সম্পুর্ন আলাদা করে দিয়েছে,
আমার পাশে কেউ আর ঘুমায়না
বাআা,মা,ভাই,বোন কেউ পাশে নেই,
প্রিয়া একবার এসে দেখে যাও তুমি
জনশুন্য নিস্তব্ধ ঘরে একা আমি।

জানো প্রিয়তমা,
তোমার মতো আমিও নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা
প্লাস্টিকের নলে অক্সিজেন ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছি আমি,
আমি অশ্রু নয়নে দুহাত তুলে বললাম,
মা,বাবা তোমরা দুরে আছ কেন?
একটু কাছে এসে বসনা,
তোমার খোকাকে একটু ভাত তুলে দাওনা।

জানো প্রিয়তমা,
কেউ আমার কাছে আসলোনা,
মা আমার চোখের জলে বুক ভাঁসিয়ে বলছে-
কি করে আসবো বাবা লক্ষি সোনা,
তোমার নিঃশ্বাসে যে ভয়ানক করোনা।
আমি আবারও ডুকরে ডুকরে কাঁদলাম,
আমি আজ বুঝেছি প্রিয়তমা
একারণেই আমায় ওরা
তোমার কাছে যেতে দেয়নি,
তোমার নরম হাতের শেষ ছোঁয়া পেতে দেয়নি।
কিন্তু বিশ্বাস কর প্রিয়তমা
আমি জানতাম না তোমার এমন মৃত্যু হয়েছে,
আমরাতো একসাথে বাঁচা মরার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম,
আমি ঠিক তোমায় জড়িয়ে
একসাথে চলে যেতাম ওপারে।
তুমি আমায় ক্ষমা কর প্রিয়তমা,
শেষ বারের মতোও তোমার মুখটা
ওরা আমায় দেখতে দেয়নি।

দু’দিনের দুনিয়ার মায়ায় পড়েই
মা,বাবা,ভাই,বোন ও বান্ধবরা,
এক মুহুর্তের জন্যও কেবল পাশে বসেনা।
তাহলে যখন ওপারে দাঁড়াবে হাসরে
তখন পাশে থাকবে কি করে!
তুমি আসছো একা,যাইবা একা
কঠিন হাসরের মাঠেও দাঁড়াবে একা,
বেঁচে থাকতেই মুছিয়ে যাও
তোমার সকল কলঙ্কের কালোটিকা।
আমার শত শত বন্ধু বান্ধবী
তারপরেও আজ আমার শুন্য পৃথিবী।

জানো প্রিয়তমা
মুখে কি যেন একটা বেধে
চোখে গগজ লাগিয়ে
সারা শরীর সাদা কাপড় পেঁচিয়ে,
ডাক্তার বাবু আমার পাশে বসে,
আমি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই তাকে
যখন সকলি আমার থেকে দুরে,
তখন তিনিই আমার পাশে বসে
বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনেন দু’চোখে।
আমি নির্বাক,বললাম কেন আমায় শান্তনা দিচ্ছেন?
মরণ করোনা গ্রাস করেছে আমায়,
আমিতো এখন এ ধরায় ক্ষনিকের যাত্রী মাত্র।

জানো প্রিয়তমা,
আর বেশি দেরি নেই,
তোমার মতো আমিও হতে চলেছি
মৃত্যুর তালিকায় একটি সংখ্যা।
শুধু অপেক্ষায় প্রহর গুনছি,
মৃত্যুর তালিকায় তোমার পাশে
কখন উঠবে আমার নামটি।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন