গুরু উপাধি পাওয়া আওয়ামী লীগের সেই নেতা মনঃকষ্টে!

0
509

খায়রুল আলম রফিক : ময়মনসিংহ ত্রিশাল উপজেলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন নিয়ে মনে কষ্ট পেলেন। এ নেতা রাজনীতির মেধা প্রমান যোগ্যতা দেখিয়ে নেতা কর্মীদের কাছ থেকে উপাধি পেয়েছিলেন গুরু। সততা, সাহসিকতা বুকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জীবন পরিচালনা করেছেন। এ নেতার পরিচিতি তিনি ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নেতা আবুল হোসেন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই। তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত।মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে টগবগে যুবক তাই পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য১৯৭১ সালে টাঙ্গাইলে গিয়েছিলেন। ঔ জায়গা যাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরত এসে বড় ভাইয়ের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করেন। দেশ স্বাধীন হলে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। এরপর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দু’ভাই ত্রিশালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাধে বিভিন্ন আন্দোলন করলে মরহুম আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করলে ছোট ভাই আবুল কালাম ঘরে বসে থাকেনি। পায়ে হেঁটে গ্রামের পর গ্রাম দলের জন্য কাজ করে দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছিলেন।

এ নেতা সাধারণ কাঠ ব্যবসা করলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে ছিল আস্থা ও বিশ্বাসের প্রিয় ব্যক্তি। সাদা-সিধে জীবন চলা ছিল তাঁর মূল নীতি। এ নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০সালে ত্রিশাল পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে বৃহত ইউনিয়ন ত্রিশাল এর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন।২০০১সালে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। তাঁন নেতৃত্বে সফল একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৮ সালে ত্রিশালে সংসদ নির্বাচনে পরিচালনা কমিটির প্রধান হয়ে বিশাল বিজয় এনে দিয়েছেন। আবুল কালাম ওরফে (গুরু)’র ৫০বছর রাজনৈতিক ইতিহাসে সব দলকে উজার করে দিয়ে আসছেন বিনিময় দলের কাছে কিছু চাওয়া নেই। বিশেষ কোন দিনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফ তাঁর বাসভবনে দাওয়াত দিয়ে শেষে দু’টি প্রশ্ন করেছিল প্রথমটি আপনার গুরু উপাধী কে দিয়েছে? উত্তরে বলেছিল নেতা কর্মীরা। দ্বিতীয় প্রশ্ন করেন, আপনার চাওয়া কি? কিছুই না দলকে ক্ষমতায় থাকতে চাই।

এই দু’টি প্রশ্নের উত্তরে প্রয়াত নেতার খুব কাছে ব্যক্তি হয়ে উঠছিলেন গুরু আবুল কালাম। ত্রিশালে সংসদ নির্বাচন নিয়েও মনোনয়ন বিষয়ে আওয়ামীলীগের প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে একাদিক বার স্বাক্ষাত করে কথা বলেছেন। পারিবারিক জীবনে ছেলে মেয়েদেরকে আওয়ামী লীগের আদর্শে বড় করেছেন।গত ২৯শে নভেম্বর বিডি২৪ লাইভ.কমের সাথে সাক্ষাতকারে ত্রিশাল আওয়ামী লীগ সম্মেলন নিয়ে কথা বললে তিনি জানান, বয়স বেড়েছে কি করব? যে পরিবারগুলো ত্রিশালের আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেছে সেই পরিবারের লোকজন আজ দলের দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নব্য আওয়ামী লীগদের হাতে চলে যাচ্ছে দল। যারা এক সময় বিএনপি করতো। ত্রিশাল সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, জানি না আমি আছি কিনা বিষয়টি অনেক কষ্টের? তবে ত্রিশাল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভালো না।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন