জনতার পক্ষবাদীত্বহীন একটি রাজনৈতিক দলের নাম-বিএনপি।

0
604

বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রধান রাজনৈতিক দল ।১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটি প্রতিষ্ঠা করেন।জেনারেল জিয়া তার শাসনকে বেসামরিক করার উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল(জাগদল)যার সমন্বয়ক ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।অতপর ২৮ আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দল অর্থ্যাৎ বিএনপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্যদের গুলিতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর প্রায় তিন বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসিত হয় অনির্বাচিত সরকার দ্বারা। সে সময় দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই বছরের মাথায় জিয়াউর রহমান আততায়ীর হামলায় নিহত হলে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি হন। পরে ১৯৮৩ সালে সাত্তারকে সরিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি হন।

শুরু হয় দেশে স্বৈরাচারী শাসন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বিএনপি নামক এই সংগঠনটি। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ৭ দলীয় জোট গঠন করে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি এরশাদ আমলে অনুষ্ঠিত ২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন বয়কট করে। স্বৈরাচারী এরশাদের সাথে কোন আপোষ না করা খালেদা জিয়াকে আপোষহীন নেত্রী বলা হয়।আওয়ামীলীগ, বিএনপি সহ সকল বিরোধী দলের গণআন্দোলনে ৬ই ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পদত্যাগে বাধ্য হয়।

পূর্বের হিসাব মতে স্বাধীন বাংলাদেশে সবথেকে বেশী সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। ১৯৯০ এর পর দেশের মোট চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুইটিতেই জয়লাভ করা এই দলটিকে নিয়ে বাংলার জনগনের আশা থাকবেই।কিন্তু সে আশার প্রতিফলন কি ঘটাতে পেরেছে দলটি?আজ ২০১৯ এ এসে বাংলাদেশের জনগন সবসময়ই স্বীকার করবে বা করতে হবে হাসিনা সরকারের মত এত উন্নয়ন দ্বিতীয় কোন সরকার বাংলাদেশে করে নি।আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেই হচ্ছে দেশের বহুল প্রত্যাশিত পদ্ধা সেতু যা সরকার নিজস্ব অর্থ্যায়নে করছে।৭১ এ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা ছাড়াও রাস্তাঘাট, জঙ্গি দমন,কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের সরকারী সনদ প্রদানসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সত্যিই প্রশংসনীয়।তবে মানুষ মাত্রই ভুল, মানুষ ভুল করবে না তো গাছপালা ভুল করবে?আর রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতা পেয়ে ভুল করতেই পারে, আর তখন তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওযার জন্য থাকে বিরোধীদল যারা সরকারের ছোট খাটো থেকে শুরু করে বড় ভুলগুলোও ধরিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকে, তারা প্রস্তুত থাকে সরকারের কোন ব্যক্তি কথন দুর্নিতি করবে আর সেই সুযোগে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে সরকারকে অযোগ্য বা দুর্ণিতীবাজ বলবে ফলে সরকারও সাবধান হয়ে যাবে কোন দূর্ণিতীবাজের কারনে তার সরকারের যেন কোন কলঙ্গ না হয়।আজ বাংলাদেশের জনগন কি সেই বিরোধীদলকে পাচ্ছে?একটি দল বা সংগঠন সামর্ঘিকভাবে যত ভালো কাজই করুক না কেন সরকার গঠনেরর পর তাদের অহংকারবোধ কাজের ব্যস্ততা বিভিন্ন চাপের দরুন তারা জনগণ থেকে কিছুটা হলেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে,আর সেই জায়গাটা পূরন করে থাকেন বিরুধীদল ,অথচ আজ বিএনপি কি সেই জায়গাটা দখলে নিতে পারছে?কেউ বলবে বর্তমানে বিরোধী দল জাতীয় পার্টী বিএনপি না তাদের উদ্দেশ্যে বলি খুজ নিয়ে দেখেন আদেী কি দেশের জনগন জাতীয় পার্টীকে বিরোধীদল হিসেবে মানে?গ্রাম গঞ্জের চা স্টলগুলোতে বসলে দেখা যায় সরকারের কোন দূর্ণিতী বা অনিয়মের খবর প্রকাশিত হলেই জনতা আগ্রহী থাকে বিএনপি কি বলে তারা কি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে কোন কর্মসুচী দিবে?কিন্তু বরাবরের মতই মানুষ হতাশ জনগন তাদের থেকে আশানুরুপ কোন সিদ্ধান্ত অতিতেও পায়নি বর্তমানেও পাচ্ছে না ।আপনি লক্ষ করলে দেখবেন বিএনপির হরতাল অবরোধ আন্দোলন সংগ্রাম শুধু দলীয় প্রধান ও প্রধানের ছেলের নামে করা মামলা অথবা গ্রেফতারের প্রতিবাদে।বিভিন্ন সময় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যসহ গ্যাসের দাম উর্ধগিতির কারনে জনমনে যখন সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে যখন এর প্রতিবাদ অান্দোলনের প্রয়োজন হয়েছে তখন জনতার পক্ষে কথা বলতে এই বিএনপি নামক স্বার্থান্বেষী দলটিকে দেখা যায় নি । ২০১১ সালে শেয়ার বাজার কেলেন্কারিতে হাজারো মানুষ যখন রাস্তায় চিৎকার চেচামেচিতে ব্যস্ত তখন তারা সাংবাদিক ডেকে এনে সস্তা দামে নিন্দা প্রাকাশ করে।নিরাপদ সরকের নামে বাচ্চা কাচ্চারা যখন আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত তখন বিএনপি নামক এই সংগঠনটি কম্বলের নিচে ফেইসবুক চালায় আর পিছন থেকে এই অান্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে ব্যস্ত।৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক “বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা ( আটশত আট কোটি টাকা) ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুরি হয় অথচ বিরোধী দল হিসেবে তাদের কি উচিত ছিল না চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারকে এই টাকা ফেরতের জন্য বাধ্য করাতে।গা বাচিয়ে অার যাই হোক রাজনীতিটা হয় না।আজ সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীরা যখন কোটি কোটি টাকা ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লোটপাট করেছে আর তাদের বিরুদ্ধে দাড়ানোর মত যখন কোন দল নেই তখন সরকার প্রধান নিজেই নিজের দলের দূর্ণিতীবাজদের গ্রেফতারে এগিয়ে এসেছেন।আজ মনে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশ ও জাতিকে দূর্ণিতী বিভিন্ন অপকর্ম থেকে রক্ষায় নিজেই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে।আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দূর্ণিতী বিরোধী সকল পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই ।আমি ধন্যবাদ জনাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন ধারা উম্মোচনের জন্য যা পূর্বের ইতিহাসে কোন সরকার বলতে পারবে না তার সরকারের আমলে সরকার নিজে নিজ দলের দূর্ণিতীবাজদের শাস্তি দিচ্ছে।আমি সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানাচ্ছি বুয়েটে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের সেই সাথে আশা রাখছি সরকার স্বাধীন মত প্রকাশে দেশের নাগরিককে স্বাধীনতা দিবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যাসহ আলোচিত ঘটনায় সরকারের গঠনমূলক সমালোনা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে বিএনপি যে ভিরু কাপুরুষতা দেখিয়েছে তাতে তারা জনতার কাছে অযোগ্য একটি রানৈতিক দল হিসেবে প্রমান দিয়েছে।।আমি মনে করি ঘরে বসে ফেইসবুক, লাইভ ভিডিও বার্তা আর দলীয় নেতাদের বিলাসিতা গা ঢাকা দিয়ে চলা,জনগনের স্বার্থে রাজপথে নামাকে নিজেদের রাজনীতির বাহিরে রাখা,জনতার পক্ষবাদীত্বহীনতা ও জেল খাটার ভয়ই বিএনপি নামক দলটিকে জনবিচ্ছিন্ন করে তুলেছে, হয়তবা অদূর ভবিষ্যতে বিএনপি নামক এই সংগঠনকে বাংলার সর্বস্তরের জনগন প্রত্যাখান করবে,কেননা জনগন সবসময়ই একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রত্যাশা করে।পরিশেষে আমি মনে করি একটি দেশের বিরোধী দল যত শক্তিশালী হবে, সরকারের যত সমালোচনা করবে সেই দেশের সরকার ব্যবস্থা তথা উন্নয়ন তত বাড়বে।

আজাহারুল ইসলাম আজাহার
সাংবাদিক,কলামিস্ট।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন