ট্রাকপ্রতি ৫শ’ টাকা প্রতিদিন চাঁদা, জানেনা কুষ্টিয়ার ডিসি !

0
487

খায়রুল আলম রফিক : কুষ্টিয়ার গড়াই নদী থেকে অবাধে বালি উত্তোলনের কারণে সৃষ্ট নদী ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটায় উভয় তীরের বাসিন্দারা। নদীর ২২টি স্পটে বালিঘাটের সরকারি অনুমোদন থাকলেও শতাধিক স্পট থেকে বালি উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ । এতে গত দেড় বছরে সরকার কমপক্ষে দেড়শ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ১০ বছর আগে জনৈক মাসুদ নামের এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে রিট দাখিলের মাধ্যমে আদালতের নির্দেশে বালি উত্তোলন বন্ধ রাখা হয় । যদিও মাসুদ নামের কোন ব্যক্তির ঠিকানা সরেজমিনে গিয়ে অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি কুষ্টিয়ায় ।

জানা গেছে, গড়াই নদীতে সরকারিভাবে বালু উত্তোলনের জন্য ২২টি ঘাটে বার্ষিক ইজারা প্রথা চালু রয়েছে। কিন্তু ইজারাদার কোনও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । অপরদিকে শতাধিক অবৈধ ঘাট থেকে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রলি ও অন্যান্য যানবাহনযোগে বালি পাচার হচ্ছে । ঘাটে অবস্থানরত আনিছ, রুবেল , মাসুম নামের জনৈক ব্যক্তিরা বালির ট্রাকপ্রতি ৫শ’ টাকা প্রতিদিন চাঁদা হিসাবে আদায় করছে । জিলাপিতলা, ব্রীজঘাটসহ বিভিন্ন ঘাট থেকে পাচার হওয়া এই বালি দিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এর নির্মাণ কাজ, কুষ্টিয়া- ঢাকা মহাসড়ক নির্মাণ কাজ, বিদ্যুৎ অফিস নির্মাণ কাজ ছাড়াও সরকারি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ।

গড়াই নদীতে অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়ে এলাকাবাসী জানান, ভাঙন রক্ষা বাঁধ, ব্রিজ এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালি উত্তোলন করা যাবে না, সরকারি এমন নির্দেশ উপেক্ষিত কুষ্টিয়ায় । নজরদারি না থাকায় কোনভাবেই সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ভারি ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন-রাত বিরামহীনভাবে বালি উত্তোলন হচ্ছে ।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন , উপরোক্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বালি উত্তোলন বন্ধে আমি একাধিকবার ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়েছি । রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের কারণে বন্ধ করতে পারিনি । বালিমহাল ২২টি বৈধ । বাকীগুলির বিষয়ে জানিনা । সরকারের শত কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রিটের বিষয়টি নিয়ে এ্যাটর্নি জেনারেল মহোদয়ের সাথে কথা বলবো ।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন