শিরোনাম
ত্রিশাল ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান হতে হলে, দরকার জাকির হোসেন সরকারের ত্রিশালে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন মেয়র আনিছ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আহাম্মদ আলী বুলুর নির্বাচনী প্রচারনা ত্রিশালে শ্রমিক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন শারদীয় দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানিহারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ফরহাদ হোসেন অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ, হাইকোর্টে আপিল করলেন বনেক ত্রিশা‌লে বাংলা‌দে‌শের খবর প‌ত্রিকার প্রতিষ্ঠা বা‌র্ষিকী পা‌লিত ত্রিশালে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করতে মেয়র আনিছের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ত্রিশালের মঠবাড়ি ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ত্রিশালে বিরল রোগাক্রান্ত সালমানের পরিবারকে ঘর প্রদান
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

ত্রিশালে  প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যবাহী ২দিনব্যাপী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত

রিপোটারের নাম / ১৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ আগস্ট, ২০২১

জাকিয়া বেগম//
ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালিপাড়া ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মনোমুগ্ধকর লাঠি খেলা।
 গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। মঙ্গলবার(২৪ অাগস্ট) ভোরে খেলাটি শুরু হয়ে ২৫ আগস্ট বুধবার শেষ হয়।
 ইউনিয়নের  ৪নং ওয়ার্ডে আমিয়ান ডাঙ্গরী     লালুর মোর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন খেলাটি স্থানীয় লাঠি খেলার প্রবীণ উস্তাদ আলী হোসেনের পরিচালনায় টিম ম্যানেজার  উস্তাদ সিরাজুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নছর উদ্দিন।
মঙ্গলবার ভোরে কেউ হেঁটে, আবার কেউবা ভ্যান করে, কেউবা মোটরসাইকেল আবার কেউ সিএনজি, অটোরিকশা করে আমিয়ান ডাঙ্গরী এলাকায় ভিড় করতে শুরু করেন তাদের প্রিয় খেলাটি দেখতে। খেলার পক্ষ থেকে করোনার এই কঠিন সময়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করতে দেখা গেছে। ভোর সকালে লাল সূর্য উঁকি মাড়লেই গ্রাম বাংলার ডোলের আওয়াজ শুরু হতে থাকে। কিষাণ,কিষাণী যুবক বৃদ্ধ বয়সের মানুষেরা ছুটে আসে রাস্তা সারা এলাকায় নেমে আসে আনন্দের উল্লাস।
ঢাক, ঢোল আর কাঁসার ঘন্টার শব্দে চারপাশ উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাদ্যের তালে নেচে নেচে লাঠি খেলে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে লাঠিয়ালরা। তারপরই চলে লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও তাকে আঘাত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েন লাঠিয়ালরা। এসব দৃশ্য দেখে আগত দর্শকরাও করতালির মাধ্যমে উৎসাহ যোগায় খেলোয়াড়দের। হারিয়ে যাওয়া এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিয়মিত এই ধরনের আয়োজন করার দাবি করেন দর্শকরা।
সমাজ থেকে অন্যায় অপরাধ দুর করতে আর হারানো ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই আয়োজন বলে জানান এই অনুষ্ঠানের প্রধান পরিকল্পনাকারী ও আয়োজকবৃন্দ
কালের ক্রমে হারিয়ে যাওয়া লাঠি খেলা দেখতে ভিড় করে নানা বয়সের মানুষ। গ্রামীন এ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাকে টিকিয়ে রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এমনটাই মনে করেন দর্শনার্থীরা।
এই খেলার পরিচালকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরা ৪০বছর যাবৎ নতুন লোকদের  প্রশিক্ষণ দিয়ে খেলোয়ার তৈরী করে ,  প্রতি বছর আমাদের এলাকা খেলা উপস্থাপন করে থাকি। অর্থাভাব থাকায় আরো উন্নত ভাবে খেলা শিক্ষা দিতে পাচ্ছি না।  আগামী দিন গুলোতে সরকারি সহযোগীতা না থাকলে হয়তবা এক সময় এই খেলাটি হারিয়ে যাবে।
খেলায় উপস্থিত ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ তাকে খেলা বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, আমরা সেই ছোটকাল থেকেই এই খেলাটি দেখে আসছি। প্রতি বছর আমাদের গ্রামে এই খেলাটি হয় এতে আমরা অনেক আনন্দ পাই।
খেলায় আরেক দর্শনার্থী এক বৃদ্ধ মহিলার সাথে কর্থা বললে তিনি জানান, প্রতি বছর এই খেলা দেখে আমরা খুশি হই।
মঙ্গলবার ভোর থেকে পর দুপুর পর্যন্ত অবধি চলা লাঠিখেলায় ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের  লাঠিয়াল বাহিনী অংশ গ্রহন করেন। পরে স্থানীয় বালিপাড়া  ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদলের নিজ বাড়িতে খেলার মধ্যদিয়ে সমাপ্তি করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ