ত্রিশালে শ্রমিক সংগঠন গুলোকে মে দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র- আনিছুজ্জামান

0
214

ফকরুদ্দীন // চলমান সমস্যায় বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ায় সভা সমাবেশ নিষেধ থাকায় সকল শ্রমিক সংগঠনকে নিরাপদে থাকার পরামর্শ ও সচেতনতা করে মহান মে দিবস২০২০ এর শুভেচ্ছা জানালেন,ত্রিশাল পৌরসভার মেয়র সাবেক ছাত্রনেতা ও সাবেক সফল যুবনেতা আলহাজ্ব এবিএম আনিছুজ্জামান আনিছ। পহেলা মে সকালে দেশের জনপ্রিয় অনলাইন দৈনিক পল্লী সংবাদের সাথে মুঠোফোনে এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে পালিত হয় দিবসটি। সেদিন দৈনিক আটঘণ্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকে ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাতনামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়।১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকীতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করেন রেমন্ড লাভিনে।
১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে আন্তর্জাতিকে দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিক ভাবে গৃহীত হয়। এর পরপরই
১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। পরে, ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে
আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষ্যে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আটঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বজুড়ে ১ মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে “শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না-থাকলে বিশ্বজুড়ে সকল শ্রমিক সংগঠন মে মাসের ১ তারিখে ‘বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না-করার’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অনেক দেশে শ্রমজীবী জনতা মে মাসের ১ তারিখকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালনের দাবি জানায় এবং অনেক দেশেই এটা কার্যকর হয়। দীর্ঘদিন ধরে সমাজতান্ত্রিক, কমিউনিস্ট এবং কিছু কট্টর সংগঠন তাদের দাবি জানানোর জন্য মে দিবসকে মুখ্য দিন হিসাবে বেছে নেয়। কোনো কোনো স্থানে শিকাগোর হে মার্কেটের আত্মত্যাগী শ্রমিকদের স্মরণে আগুনও জ্বালানো হয়ে থাকে। পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র, চিন, কিউবাসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মে দিবস একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সেসব দেশে এমনকি এ উপলক্ষ্যে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ও এই দিনটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে। তাই সকল শ্রমিক তাদের কর্ম বিরতি দিয়ে ১মে দিবসটি পালন করেন। চলমান সমস্যা করোনার তান্ডবে সারাবিশ্ব স্তব্ধ লাখ লাখ মানুষ মৃত্যুতে শোকাহত পৃথিবীর সব রাষ্ট্র। মে দিবস পালন করতে না পারলেও ত্রিশালের সকল
শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিক ভাইদের প্রতি রইলো শুভেচ্ছা। সবশেষে মেয়র বলেন, চলমান করোনা সমস্যায় কর্মহীন দিন রুজি করা শ্রমিকদের পাশে বৃত্তবান শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা যেন এগিয়ে আসেন। অসহায় শ্রমিকরা তারা যেন, না খেয়ে না থাকেন।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন