দৈনিক পল্লী সংবাদ: এক ভৃঙ্গরাজে ১০ রকমের উপকারীতা।

0
99
ভৃঙ্গরাজ একটি ছোট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। স্থানভেদে কখনো ভুলুন্ঠিত হয়। এটির ফুল হলুদ হয়। ভৃঙ্গরাজের আরো তিনটি প্রজাতি লক্ষ করা যায়। একটির ফুল নীল, একটির সাদা এবং অন্যটির ডাঁটা একটু লালচে, ৩.৪ সে.মি থেকে ৯.৫ সে.মি পর্যন্ত লম্বা হয়। ডাঁটা রসালো, নরম, সূক্ষ্ম লোমশ ও দ্রুত বাড়ে। বর্ষাকালে হলুদ রঙের ফুল হয় এবং শরৎকালে ফল হয়। এর ডাঁটার গিরা থেকে পাতা বের হয়। পাতা ৪- ৮ সে.মি লম্বা এবং ১.২-২.০ সে.মি. পর্যন্ত চওড়া হয়। পাতার কিনার হালকা খাঁজকাটা। ডাঁটার প্রতি গেরা থেকে দুটি করে পাতা বিপরীতমূখী হয়ে গজায়। পাতার আকৃতি লম্বাটে বর্শাকৃতি অমসৃণ ও খসকসে।
ঔষধি গুণ:
১। সূর্যোদয়ের পর অনেকের মাথায় যন্ত্রণা হয় (শিরোরোগ) বা আধকপালে ব্যাথা হয় (সাইনোসাইটিস); সে ক্ষেত্রে ভৃঙ্গরাজের পাতা গুঁড়ার নস্যি নিলে বা পাতার রস মাথায় মাকলে উপশম হয়।
২। মাথার চুল ওঠায় এই পাতার রস দুপুরে মাথায় লাগালে অথবা রস দিয়ে তেল পাক করে ব্যবহার করলেও চুল পড়া বন্ধ হয়।
৩। মহিলারা শ্বেত প্রদরের শিকার হলে প্রায়ই মাথার চুল উঠে যায়, সে ক্ষেত্রে ভৃঙ্গরাজের পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে ‍দিনে দুইবার মাথা ধুলে ৩/৪ দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাবে।
৪। চোখ উঠে পুঁজ জমলে ২০/২৫ ফোঁটা ভৃঙ্গরাজের রস পানিতে মিশিয়ে এ পানি দিয়ে চোখ ধুলে চোখ ‍উঠা সেরে যাবে।
৫। পায়োরিয়া হলে ভৃঙ্গরাজের পাতা গুঁড়া করে মাজনের মতো ২/৪ মিনিট ব্যবহার করলে পায়োরিয়া সেরে যায়। এ ছাড়াও এতে মাড়ী শক্ত হয় এবং মাড়ীতে কোনো ঘা থাকলে পাতার ক্বাথ দিয়ে কয়েকদিন মুখ ধুলে সেরে যায়।
৬। গুঁড়া কৃমির উপদ্রব হলে এর পাতার রস পূর্ণবয়স্কদের জন্য এক চা চামচ ১/৮ কাপ পানিতে মিশিয়ে খেলে উপদ্রব কমে যায়।
৭। অজীর্ণ মল, তার সাথে আমও আছে (পুরাতন আমাশয়) এরকম ক্ষেত্রে ২৫/৩০ ফোঁটা ভৃঙ্গরাজ পাতার রস প্রতিদিন আধা কাপ ছাগলের দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে এতে উপকার পাওয়া যাবে।
৮। ভৃঙ্গরাজের পাতার রস মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়।
৯। রক্তে শ্বেত কণিকা বেড়ে গেলে ২৫/৩০ ফোঁটা এই পাতার রস দুধের সাথে মিশিয়ে? খেলে রক্ত স্বাভাবিক হয়ে আসে।
১০। দাঁতে ভৃঙ্গরাজ রসের প্রলেপ ‍দিলে বেশ উপকার হয়।
পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন