বাকৃবি সহ ময়মনসিংহ অঞ্চলের সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সদস্য অত্রাঞ্চলের স্থানীয়দের দেওয়ার দাবী।

0
335

১৯৫৯ সালে তদানিন্তন সরকার,
জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে,
উচ্চতর কৃষি শিক্ষার প্রসার ও কৃষি প্রযুক্তির সার্ব্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে,
কোন জেলা শহরের প্রান্তে, যেখানে রেলপথ, নদী পথ, সড়ক পথ ও সেচ সুবিধা সহ বন্যা মুক্ত,
বছরে একাধিক ফসল যোগ্য বিশাল কৃষি জমি বিদ্যমান সেখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।
তখনকার সময়ে সরকার এবং সরকারী চাকুরীতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের (যা এখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ নামে পরিচিত) উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগন উদ্যোগী হয়ে ময়মনসিংহ জেলা শহরের প্রান্তে চাহিদা মত সুবিধা সম্বন্বিত বিশাল এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (তদানিন্তন নাম পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) স্থাপনে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখেন।
যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রস্তাব গৃহীত হবার পর বাকৃবি এলাকার জমির মালিক গন তাদের জমি রক্ষায় আন্দোলন শুরু করে। তখন ময়মনসিংহ অঞ্চলের সর্বস্তরের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ সংঘবদ্ধ ভাবে উক্ত এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে এলাকাবাসীদের সাথে সভা সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এর গুনাগুন, প্রয়োজনিয়তা এবং এলাকার উন্নয়নের বিষয় বর্ননা করে দফায় দফায় মত বিনিময় করেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ও তাদের উত্তরসূরিদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী প্রদান করে ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এলাকাবাসীর সম্মতি আদায় করেন।
জমি অধিগ্রহণ শেষে অবকাঠামোগত নির্মান কাজের কার্যাদেশ প্রদান করার পর ময়মনসিংহ বিরোধী একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের গর্বিত সন্তান তদানিন্তন সরকারের এক মাত্র প্রধান প্রকৌশলী ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার শ্রীবর্দ্দী থানার (বর্তমানে বক্সীগঞ্জ থানা) অধিবাসী ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার কার্য্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারদের তার বাসায় চা চক্রের দাওয়াত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা করে তা মোকাবেলার জন্য সকল ঠিকাদারকে মোটা অংকের বিল পরিশোধ করে ত্বরিত কাজ শুরু করার অনুরোধ জানান। ঠিকাদার গন ক্ষীপ্র গতিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ইট, বালু, রড সিমেন্ট ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে নির্মান কাজ দৃশ্যমান করে তুলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের নিমিত্তে আহুত সভায় চীফ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার বলেন লক্ষ্য লক্ষ্য টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে, ঠিকাদার গন দ্রুত গতিতে কাজ করে যাচ্ছে, এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলে সরকারী অর্থের বিশাল অপচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং ঠিকাদার গন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের মেধাবী সন্তান চীফ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বারের বুদ্ধিমত্তা ও স্থানীয় ঠিকাদার গনের বিশ্বস্ততা এবং পরিশ্রমে স্থানান্তর প্রক্রিয়া রদ হয়ে যায়।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ বাসীর জায়গা জমি সহ বিভিন্ন প্রকার ত্যাগে প্রতিষ্ঠিত বাকৃবি এখন স্বনামে বিখ্যাত দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় এর ষ্ট্যাটিউট দ্বারা। ষ্ট্যাটিউট অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারনী সর্ব্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট সদস্য সংখ্যা ১২ জন। এর ৬ টি পদ উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, বাকৃবির ভিসি, ডীন ও রেজিষ্ট্রারের জন্য নির্ধারিত। বাকী ৬ টি পদে ভিসির প্রস্তাবানুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে যোগ্যতা সম্পন্ন অসংখ্য প্রার্থী থাকার পরও দীর্ঘদিন যাবৎ সিন্ডিকেট সদস্য নিয়োগের সময় পরিকল্পিত উপায়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বাসীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
সিন্ডিকেট গঠনের সময় ময়মনসিংহ বাসীর অলক্ষ্যে অন্যান্য বিভাগ ও জেলা থেকে সদস্য মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে।
নিয়োগ প্রাপ্ত সদস্য গন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ ও তাদের পদোন্নতি সহ অন্যান্য বিষয়ে আঞ্চলিকতার দোহাই দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ বাসীকে বঞ্চিত করে যাচ্ছে। বাকৃবি কে বিশেষ এলাকার পূনর্বাসন কেন্দ্র বানানো হচ্ছে।
আঞ্চলিকতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি ঘরানার শিক্ষক ভিসি পদে নিয়োগ পাচ্ছে। যোগ্য ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি মূল্যায়িত হচ্ছে না।
আঞ্চলিকতার জন্য তদন্ত কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে দূর্নীতিবাজের সহযোগী কে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন /নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একারনে বিশ্ববিদ্যালয় সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহে স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহন করে, এখানকার আলো বাতাসে মানুষ হয়ে, এই এলাকার মানুষকে পরিকল্পিত উপায়ে বঞ্চিত করবে তা মেনে নয়া যায় না।
ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে প্রতিষ্টিত কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। এছাড়া নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যথাক্রমে শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়। শেষোক্ত দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম টির শিক্ষা কার্য্যক্রম এখনো শুরু হয় নি।বাকী টা নিয়ে ষড়যন্ত্র হবে না তা বলা যায় না।
সুতরাং বৃহত্তর ময়মনসিংহ বাসীর নিকটে নিবেদন চলুন সমস্বরে দাবী তুলি,
১। বৃহত্তর ময়মনসিংহের সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য নিয়োগ দিতে হবে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অধিবাসীদের ভিতর থেকে।
২। কোন সদস্যকে দুই বারের বেশী নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
————————————
আবদুল কুদ্দুস মাখন
স্থানীয় বাসিন্দা বৃহত্তর ময়মনসিংহ।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন