ময়মনসিংহে খান গোষ্ঠীর তান্ডবে ঘর ছাড়া মন্ডল গোষ্ঠী

0
520

মোঃ রবিউল আউয়াল রবি, ময়মনসিংহ ব্যুরো:
খান গোষ্ঠীর লাগাতার ভয়াবহ তান্ডব,ভাংচুর ও লোটপাটের ঘটনায় ঘর ছাড়া মন্ডল গোষ্ঠীর ৫ টি পরিবার।প্রায় দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চলে আসা বিরোধ এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বোররচর ইউনিয়নের দিয়ারচর গ্রামের মন্ডল এবং খান দুই গোষ্ঠীর চলমান দ্বন্দ্ব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে বার বার। ঘটেছে একাধিক প্রাণহানীর ঘটনাও । আহত হয়েছেন অনেকেই। হামলা, মামলা যেন সেখানে নিত্যদিনের আতংকে রুপ নিয়েছে। খান গোষ্ঠী প্রভাবশালী হওয়ায় বারবার হামলা,ভাংচুর,লোটপাট ও বাড়িঘরে আগুন পুড়ার শিকার হয়েছে মন্ডল গোষ্ঠীর পাঁচটি পরিবার।
মন্ডল গোষ্ঠীর কামাল হোসেন মন্ডল জানান, ১৯৮৫ সাল থেকেই মন্ডল এবং খান গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলছে। এই বিরোধে ১৯৮৫ সালে আমার জেঠা মেঘু মিয়া ও ১৯৯৯ সালে আমার বাবা আব্দুল মোতালেব মন্ডলকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এছাড়াও অনেকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। খান গোষ্ঠী শক্তিশালী হওয়ায় আমার বাবা ও জেঠাকে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করেও আইনের ফাঁক ফোকরে তারা বেরিয়ে এসেছে।২০০৪ সালে হত্যার উদ্দ্যেশে আমার উপর হামলা হয়েছে।আমার একটি চোখ নষ্ট হলেও প্রাণে বেঁচে যাই । সম্প্রতি মন্ডল গোষ্ঠীর রামভদ্রপুর বহুমূখী উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মেয়ে-কে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে খান গোষ্ঠীর ছেলে মমিন খান। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করায় ক্ষেপে যায় খান গোষ্ঠী। ভাংচুর করে ঘর-বাড়ি। নষ্ট করা হয় ফসলী জমি।
মন্ডল গোষ্ঠীর অপর সদস্য জানান, আমাদের এলাকাটি ময়মনসিংহ সদর,ফুলপুর ও নকলা উপজেলার সীমান্ত হওয়ায় আমরা সহজে পুলিশি সহযোগীতা পাই না ।আমরা আইনের মাধ্যমে এ সমস্ত ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
সরকার গোষ্ঠীর তান্ডব থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের শরণান্ন হলেও কোন প্রতিকার মেলেনি বলে জানান ঘরছাড়া ৫ টি পরিবার।
এবিষয়ে বোররচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শওকত আলী বুদু বলেন, আমি বারবার উভয় গোষ্ঠীর লোকজনদের নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করে আসছি। এনিয়ে আমি ফুলপুর ও নকলার চেয়ারম্যানদের নিয়ে বারবার বসে সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু সমাধান হচ্ছে না অদৃশ্য কারণে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মাহমুদুল ইসলাম জানান, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যুগযুগ ধরে চলা বিরোধ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে সেটি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে ।
নকলা থানার এসআই মোঃ শাহ আলম খান বলেন, মামলা হওয়ার কিছুদিন পর আসামীভুক্ত ২২ জনের মাঝে ২১ জন আদালতে আত্নসমর্পণ করে জামিনে মুক্ত রয়েছে। তবে মামলায় ১নং আসামী মজিবুর রহমান এখনো পলাতক রয়েছে । তবে তাকে আটকের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে। ফুলপুর থানার এসআই মাহবুবুল ইসলাম জানান, ২৯ ডিসেম্বর ফুলপুর থানায় শাহিন মিয়া বাদী হয়ে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।এতে অভিযান চালিয়ে ৮ নং আসামী এনামুল হক মেম্বার কে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।বাকি আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে চলে আসা দ্বন্দ্ব দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে সামাজিক মেলবন্ধন ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন