ময়মনসিংহে খেলার মাঠ অবৈধ দখলদারদের হাতে

0
187

মোঃ রবিউল আউয়াল রবি, ময়মনসিংহ ব্যুরোঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১০নং দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী দাপুনিয়া বাজার খেলার মাঠ বিভিন্নভাবে অবৈধ দখলদারদের হাতে । অপরদিকে এ মাঠকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে দাপুনিয়া বাজার খেলার মাঠ রক্ষনাবেক্ষর কমিটির সভাপতি তামিরুল ইসলাম বেগ। লিখিত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনসাধারণের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে স্কুল ও কলেজের ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার সুবিধার্থে ১৯৩৬ সাল হতে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সনে বি.আর.এস জরিপে ৩ণং খতিয়ানে ৭৮৯১ দাগটি শ্রেণী খেলার মাঠ নামে তিন একর ভুমি রেকর্ড হইয়াছে। মাঠটির নিকটবর্তী ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, সদরসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ক্লাব বা সংগঠন বিভিন্ন খেলা ধুলায় অংশ গ্রহন করে মাঠটিকে প্রাণবন্ত করে রাখত। ১৯৭৫ সালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে জাতির জীবনে যেমন কালো অধ্যায় রচনা করেন পাকিস্থানের দালাল চক্র কিছু স্বার্থলোভী মহল তেমনি, ২০০১ সালে জামায়াত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৪ সালে জামায়াত-শিবির, বিএনপি তৎকালীন ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাদের সমন্বয়ে খেলার মাঠের অভ্যন্তরে অস্থায়ী ডি.কে.জি.এস ইউনাইটেড কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অত্র এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ খেলার পরিবেশ নষ্ট করে খেলার মাঠ দখল করে কলেজ প্রতিষ্ঠায় বাধা প্রদান করে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ২/৩ বছরের মধ্যে কলেজ নিজস্ব ভুমিতে স্থানান্তর করা হবে মর্মে প্রতিশ্রতি প্রদান করেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার নীতিমালা হলো কলেজের নিজস্ব ভুমি থাকতে হবে। পরবর্তীতে জানা যায় ডি.কে.জি.এস ইউনাইটেড কলেজের ভুমি সুহিলা মৌজায় আছে, দাতা ডাঃ হাবিবুর রহমান। উক্ত জমি দেখিয়ে কলেজের প্রাথমিক রেজিষ্ট্রেশন নেওয়া হয়। অদ্যবদী কলেজ স্থানান্তর না করে মাঠের অভ্যন্তরে বহুতল ভবন নির্মাণ করেন। এমনকি মাঠের অবশিষ্ট অংশে গরুর হাট বসিয়ে মাঠটিকে খেলার অনুপযোগী করা হয়েছে। উক্ত মাঠটিকে কেন্দ্র করে দাপুনিয়া বাজারের চারদিকে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গায় ২৫/৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুওলোতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীরা এ মাঠে খেলাধুলা করবে। দুঃখজনক অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে খেলাধুলার আয়োজন করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদান করেন। এতে করে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাও ইতিমধ্যে ঘটেছে। বিপদগামী ছেলেমেয়েদের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন পেশাজিবীদের সমন্বয়ে ১১১ সদস্য বিশিষ্ট দাপুনিয়া বাজার খেলার মাঠ রক্ষণাবেক্ষন কমিটি ও ৩১ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্ঠা কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাবেক মেম্বার মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, এ মাঠ নিয়ে যেকোন সময় বড় ধরনের সংর্ঘষের সম্বাবনা রয়েছে। অতিসত্তর কলেজের নির্ধারিত জায়গায় কলেজটি স্থানান্তর করে এলাকাবাসীর অশান্তি থেকে মুক্তি দানে জোর দাবী জানাচ্ছি। স্থানীয় ব্যবসায়ী আঃ রহিম ও কমির উদিদন জানান, বর্তমানে কলেজ নিয়ে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্য রহস্যজনক। মনে হয় চেয়ারম্যান মোটা অংকের টাকা খেয়ে আমাদের সাথে টালবাহানা শুরু করছে। আমাদের দাবী সুহিলা নামক স্থানে কলেজ স্থানান্তর করা হউক। ডি.কে.জি.এস ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুল হাসান আরিফ এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি। তিনি শুধু বলেন এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সবকিছুই জানে তিনি আপনাদের বলবেন যা বলার। প্যানেল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনিসুর রহমান কাজল বলেন, সাবেক আজাদ চেয়ারম্যানের আমলে রেজুলেশনের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে ডি.কে.জি.এস ইউনাইটেড কলেজ ও শাপলা কিন্টারগার্ডেন দেওয়া হয়েছিল। প্রতিমাসে ডি.কে.জি.এস ইউনাইটেড কলেজ ভাড়া বাবত ৩,০০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন