শিরোনাম
ত্রিশাল ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় চেয়ারম্যান হতে হলে, দরকার জাকির হোসেন সরকারের ত্রিশালে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করলেন মেয়র আনিছ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আহাম্মদ আলী বুলুর নির্বাচনী প্রচারনা ত্রিশালে শ্রমিক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন শারদীয় দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানিহারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ফরহাদ হোসেন অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ, হাইকোর্টে আপিল করলেন বনেক ত্রিশা‌লে বাংলা‌দে‌শের খবর প‌ত্রিকার প্রতিষ্ঠা বা‌র্ষিকী পা‌লিত ত্রিশালে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করতে মেয়র আনিছের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ত্রিশালের মঠবাড়ি ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ত্রিশালে বিরল রোগাক্রান্ত সালমানের পরিবারকে ঘর প্রদান
শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

রাজনীতি মুক্ত নয়; অপরাজনীতি মুক্ত হোক আমাদের রাজনীতি ভাবনা

রিপোটারের নাম / ৫০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২০

ছবিটিতে যা দেখতে পাচ্ছেন তা হলো, ময়মনসিংহে অবস্থিত এবং যথেষ্ট পরিচিত একটি কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি যেখানে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে লেখা হয়েছে,“রাজনীতি ও ধূমপান মুক্ত শিক্ষাঙ্গন”। অর্থাৎ রাজনীতির মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজ ব্যাবস্থায় অপরিহার্যবিষয়কে ধূমপানের সাথে তুলনা করা হচ্ছে বা একই পর্যায়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু, এই তুলনা বা ধূমপান ও রাজনীতির সমপর্যায়ের অন্তর্ভুক্তি কী ইঙ্গিত বহন করে তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?

রাষ্ট্রযন্ত্রের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাকে, আমাকে, সর্বোপরি একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে জানতে হয় এবং হবে।আপনাকে জানতে হবে-আপনি যে জায়গায়(সমাজ/দেশ) জন্মগ্রহণ করেছেন সেটা স্বাধীন কি না? সেটা আপনাকে কতটা নিরাপত্তা দিচ্ছে? আপনার অধিকার গুলোর(মৌলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক) ঠিকঠাক বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা? সেই রাষ্ট্রযন্ত্র বা সমাজযন্ত্র কারা পরিচালনা করছে এবং কীভাবে করছে? আপনার কেনা একটি পণ্য রাষ্ট্রের পরিচালনায় কী ভূমিকা রাখছে?পণ্য হতে প্রাপ্ত করের টাকা কারা কিভাবে গ্রহন করছে এবং সে টাকা সঠিক জায়গায় সচ্ছতার সাথে খরচ হচ্ছে কি না?

এমনকি, রাষ্ট্র/সমাজ বাদ দিলেও-ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি কীভাবে এড়িয়ে যাবেন? আপনি কী খাচ্ছেন? কী বিষয়ে পড়াশুনা করছেন? কেন ইংরেজিকে অন্যান্য বিষয় হতে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়ছেন? এমনকি,এই লেখাটা পড়ার সময় যে অক্সিজেনটুকু গ্রহণ করছেন তা কতটা নিরাপদ বা দূষিত? কারা দূষণ বেশি করছে? কেনো দূষণ কমানো যাচ্ছে না?

এ সকল প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে বা পেছনের কারণ বের করতে গেলে অবশ্যই আমাদের রাজনীতি বুঝতে হবে এবং জানার চেষ্টা করতে হবে। রাজনীতি জানার এবং বোঝার গুরুত্ব কতটুকু তা আমরা অনুধাবন করতে পারি বার্টোল্ট ব্রেখট’এর একটি উক্তি থেকেঃ“নিকৃষ্টতম অশিক্ষিত হচ্ছে সে, যে রাজনৈতিকভাবে অশিক্ষিত। সে শুনতে চায় না,বলতে চায় না এবং রাজনৈতিক বিষয়ে অংশগ্রহণ করে না।সে জানেনা জীবনের মূল্য, ধান, মাছ, আটা, বাসাভাড়া, জুতা বা ঔষধের দাম—সব কিছু নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।এই রাজনৈতিক অশিক্ষিত এতই মূর্খ যে,সে বুক ফুলিয়ে গর্ব করে বলে রাজনীতিকে ঘৃণা করি এই মূর্খ জানেনা,তার রাজনৈতিক অজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় পতিতালয়,পরিত্যক্ত সন্তান,এবং সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ভণ্ড রাজনীতিবিদ,দূর্নীতিবাজ এবং দেশি-বিদেশি কর্পোরেট কোম্পানির ভৃত্য দালাল।”

এখন আপনি নিজেকেই প্রশ্ন করুন যে, কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করছে আর কে বা কারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে-এগুলো কি আসলেই এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়? এবং যেখানে শিক্ষাঙ্গনকে বলা হয়ে থাকে ভবিষ্যতের উঠোন-যেখানে ভবিষ্যতে বীজগুলোর ঠিকভাবে পরিচর্যা করা হয়ে থাকে, সে জায়গাটুকুকে রাজনীতি বিমুখ করে রাখার যৌক্তিকতা কতটুকু? যৌক্তিকতা না থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কেনো স্কুল-কলেজে এই রাজনীতি বিমুখ করার প্রচেষ্টা তীব্রভাবে শুরু হয়েছে তা নিয়ে একটু আলোচনা করলে দেখা যাবেঃ-

৭৫ পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশে নামক রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে পড়েছে তারা হয় একটি অগোছালো গদিতে এসে বসেছে নয়তো গোছালো গদিকে অগোছালো করেছে। কিন্তু, প্রায় সবার দৃষ্টি ছিলো “ক্ষমতার” দিকে (কারো কম কারো বেশি)। এই ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিই এখনো আমরা দেখছি। কেউ ক্ষমতার সরাসরি প্রয়োগ করছে কেউবা কারো মাধ্যমে বা মাধ্যম হয়ে করছে। কিন্তু, একটা নির্দিষ্ট বলয়থেকে বের হয়ে আমরা রাজনীতি করতে পারছি না। আমরা, পূর্বপুরুষদের দেখানো পথেই হাটছি। কিন্তু, যে পথে প্রতিবন্ধকতা বেশি এবং ভিন্ন পথ থাকলেও আমাকে সে পথেই হাটতে হবে, এই ধরনের মানসিকতায় আমাদের-বুয়েটে “আবরার” হত্যা ও “সাবেকুন নাহার সনি” হত্যার মতো ঘটনা দেখিয়েছে এবং এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনে এমন ঘটনা আরও যে দেখতে হবে তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশ সেরা বিদ্যাপিঠ “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”, যে বিশ্ববিদ্যালয় বা যার ছাত্র সংসদ একটি সময় দেশের রাজনৈতিক গতিবিধি ঠিক করতো সে প্রতিষ্ঠান বর্তমানে যে ধরনের রাজনীতির চর্চা করে সে চর্চার ফলাফল হিসেবে সে দেশের জন্য কী করতে পারছে বা পেরেছে-তার উত্তরটুকু একটু চিন্তা করলেই পাওয়া যাবে।

আর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি চর্চার নামে যা যা হচ্ছে তার মধ্যে হচ্ছেঃ গেস্টরুম কালচার, সিনিয়র নেতাদের প্রটোকল, কেন্দ্রীয় কোনো নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেই প্রায় সময়ই তাদের ঘিরে এখানে-সেখানে উচ্চ স্বরে স্লোগান! আর,এই সকল কাজগুলো যাদের দ্বারা সম্পাদিত হচ্ছে তারা অধিকাংশই প্রথম,দ্বিতীয়, এবং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রী যার মধ্যে অধিকাংশই পদহীন কর্মী। কিন্তু,উপরের তথাকথিত রাজনৈতিক কাজগুলো সম্পাদনের জন্য এই যে ঢালাওভাবে যাদেরকে ব্যবহার করা হচ্ছে এতে রাজনীতির মাঠে লাভটুকু কী হচ্ছে? যা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম হলোঃ

অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীর মানসিক অবসাদ সৃষ্টি, হতাশার সৃষ্টি, মাদকাসক্তি এবং একের অধিকবার পুনঃভর্তী যার ফলাফল গিয়ে দেখা যাচ্ছে, “ ছিনতাই করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আটক”। এমন অনেক ফলাফলের কথা না-ই বা বললাম। কিন্তু,আমাকে কি কেউ বলতে পারবেন যে,উপরে উল্লেখিত ধরনের রাজনৈতিক চর্চা(যা প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই হচ্ছে) শিক্ষার্থীদের জীবনে কী আদৌ কি কোন ভালো ফল এনে দিচ্ছে? এ ধরনের রাজনীতি চর্চা দেশের জন্যই বা কী ধরনের কল্যাণ বয়ে আনছে? বরং,বছরের পর আমরা কিছু মেধাবী মুখ হারাচ্ছি আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের স্বকীয়তা হারাচ্ছে। অথচঃ এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন হয়েছে,মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তথা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের।

কিন্তু,যে সকল শিক্ষার্থীরা জাতির জন্য এমন কিছু গৌরবময় আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলো বা আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছিলো তারা- বর্তমানে আমরা রাজনীতি চর্চার নামে যা যা করছি তা তা করতেন? বঙ্গবন্ধু গেস্টরুম করতেন বা করাতেন? জাতীয় চার নেতা কি এমন কাজ করতেন বা একটি পদের জন্য রাত-দিন নেতার পেছনে ছুটতেন? আর পদ পাওয়ার পর সে পদ ব্যবহার করে যা ইচ্ছা তাই করতেন? তারা যদি এসব না করে থাকেন,তাহলে তাদেরকে আদর্শ ধরে নিয়ে আমরা রাজনীতির নামে যা করছি তা আদতে আমাদেরকে কোনদিকে ঠেলে দিচ্ছে? তার উত্তর রয়েছে উপরের এই বিজ্ঞাপনি ছবিটাতে।

আমরাই আজকের প্রজন্ম। আমরাই অনাগত ভবিষ্যৎ। আমাদের রাজনৈতিক সংকট ও তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে আমাদেরকেই ভাবতে হবে। নয়তো “নিকৃষ্টতম অশিক্ষিত হচ্ছে সে,যে রাজনৈতিকভাবে অশিক্ষিত”-ব্রেখটের এই উক্তিকে ঠিক প্রমাণ করার জন্য সমাজের একটা কোণে আমাদেরকে পড়ে থাকতে হবে। আর, “আই হেইট পলিটিক্স(রাজনীতি মানেই নোংরামি)” মানসিকতা নিয়ে যে সম্প্রদায় তৈরী হচ্ছে তারা এক সময় এই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে এবং আমি-আপনি মূর্খ/অশিক্ষিতদের দ্বারা শাসিত ও শোষিত হবো।

লেখক-
মোঃ এনামুল হক
শিক্ষার্থী,
তৃতীয় বর্ষ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ