গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়িতে সহায়তা দিচ্ছেন মেয়র-আনিছুজ্জামান

0
247

ফকরুদ্দীন // নভেল করোনাভাইরাস সমস্যায় বর্তমান বিশ্ব আতংক, স্তব্দ সারা দুনিয়া। মানব সভ্যতার মাঝে মহামারী অবস্থায় সৃস্টির রূপ নেওয়ার মত যখন সম্ভাবনা, পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো যখন এই বিপদগ্রামী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হিমসিম খাচ্ছে, সব মানবজাতি নিজ নিজ ঘরে দরজা আটকিয়ে হতাশায় জনবিছিন্ন ভাবে জীবন পার করছে। একজন আরেক থেকে বহুদুর। প্রতিদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমস্যা বিষয়ে টিভিতে প্রকাশনায় হচ্ছে করোনা গ্রাস করছে বিশ্ব। প্রতি মহুত্যেই লাশের মিছিল । করোনার ভয়ে পৃথিবী ২ শত দেশের মানুষ মৃত্যুর অাতংকিত হয়ে সময় অতিক্রম করছে। ঠিক এই সময় বাংলাদেশে অর্ধশত মানব দেহে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাসটি। জনবহুল ও মধ্যম আয়ের উন্নত এই দেশটি যাতে করোনার গ্রাসে সর্বনাশ না ডেকে আনতে পারে, সে জন্য দেশের দক্ষ সরকারের পরিকল্পনায় দেশের মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে আহবান জানান, নভেল করোনার বিস্তার প্রতিরোধ থেকে রক্ষা পেতে সকল মানুষ যেন, যার ঘরে অবস্থান করেন। এই একটি আহবানে দেশের সকল মানুষ নিবর হয়ে, করোনার সংক্রমণ বিস্তার রোধ ধনী দরিদ্র দিনমজুর সকলেই নিজ গৃহে অবস্থান করছেন।কেউ বাহিরে নেই। দিনরুজি করা মানুষ গুলোও করোনার সংক্রমণ বিস্তার প্রতিরোধে রুজির কথা চিন্তা না করে,পেটে ভাতের কথা চিন্তা না করে, করোনাভাইরাসের চিন্তা করে নিজে থেকেই নিজ ঘরে বন্দি হয়েছেন। এই কঠিন সময়টি পার করছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভার সকল নাগরিক। ঐতিহ্যবাহী ত্রিশাল বাজারটিতে দিনরুজি করা হাজার হাজার মানুষ। ত্রিশাল বাজারটি যখন একেবারেই বন্ধ অবস্থা রয়েছে, জনশূন্য শহরটিতে আজ সব কর্ম অচল। লোকজনে চলা ফেরা না থাকায় ভ্যান -রিক্সা চালকরাও আজ বেকার। এই অবস্থার কথা চিন্তা করে ত্রিশালের নন্দিত মেয়র ঘোষণা দিয়েছিলেন, ত্রিশাল পৌরসভায় একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না। সেই ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর ব্যবসায়ী মূলধন থেকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ করে, সারা পৌর এলাকায় গরীব অসহায় মানুষদের তালিকা করে, চাল, ডাল, আলো, ও সাবান নিয়ে রাত গভীরে অসহায় মানুষের দরজায় গিয়ে নিজে এই সহায়তা তুলে দিচ্ছেন। ৩০ মার্চ রাতে ত্রিশাল পৌরসভার ১নং ও ৯নং ওয়ার্ডের ৫৭০জন মানুষকে এই সহায়তা দিয়েছেন। এবং নভেল করোনাভাইরাস সচেতন করছেন। ৩০মার্চ রাত ১১’৫০ মিঃ সময় ৯নং ওয়ার্ডে বরকোমা এলাকায় যখন এই সহায়তা করছিলেন, এই সময় দেশের জনপ্রিয় অন-লাইন দৈনিক পল্লী সংবাদ পত্রিকায় পক্ষ থেকে সাক্ষাত করলে, তিনি জানান, আজ দু’টি ওয়ার্ডে ৫৭০ জন অসহায় মানুষদেরকে আমি এই সহায়তা দিয়েছি। সকল ওয়ার্ডে এই সহায়তা আমি নিজে গিয়ে পৌঁছে দিব। এর পর মেয়র আনিছুজ্জামানকে করোনাভাইরাসে তাঁর নিজের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করলে, তিনি জানান, আমার পৌর সভায় তারা আমাকে নির্বাচিত করে চেয়ারে বসিয়েছেন, তারা না খেয়ে থাকবে আর আমি জীবনের মায়া করে তাদের কাছ থেকে দূরে চলে যাব এটা আমি চাই না। আমার পৌরসভা সকল মানুষ যদি বেঁচে থাকে, আমার বেঁচে থাকা স্বার্থক হবে। আর যদি তারা না খেয়ে কষ্ঠ করে সেটা আমার জন্য হবে কষ্টের ও লজ্জার। আমি মৃত্যু ভয় পাই না। আমার জনগন নিরাপদ না থাকলে এটাই আমার ভয়। তিনি আরো বলেন,দু’বারে নির্বাচিত হয়ে স্বপ্নময় ও আধুনিক পৌরসভা সৃষ্টি করেছি এই পৌরসভায় কেহ না খেয়ে থাকবে সেটা আমি বেঁচে থাকতে হতে দিবনা।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন