শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলো আসবেই – সরকার মোঃ সব্যসাচী

0
595

শেখ হাসিনা সংগ্রামী মহীয়সী এক অগ্নিকন্যা। পিতা মুজিবের দুচোখে আঁকা স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়ী শিল্পী তিনি। তাইতো আঁধারে ঘেরা চারণভূমিতে দুদণ্ড শান্তি আনতে বাংলার বুকে আলোকবর্তিকা হয়ে আবির্ভাব হয়েছিলো তাঁর। যে মৃত্তিকাতে লেগে আছে পিতা-মাতা-ভাইসহ পুরো পরিবারের রক্তের দাগ, যে মৃত্তিকায় আছে প্রাণ সংশয়। তবু তিনি ফিরে এসেছিলেন এ মৃত্তিকার কোলে শুধু এই জনপদের মানুষদের জন্য।

শেখ হাসিনা এই সবুজ-সুফলা ভূখণ্ডের প্রতি ইঞ্চি ইঞ্চি ঘুরে বেড়িয়েছেন। মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। মানুষের যন্ত্রণাকে ধারণ করতে চেষ্টা করেছেন। এদেশের মানুষদের সাথে হতে আসা অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। জীবন বাজি রেখে পুনরুদ্ধার করেছিলেন গণতন্ত্রকে। গোটা জাতিকে দেখিয়েছিলেন নতুন এক দিশা। হয়েছিলেন বাঙালির নতুন এক হাতিয়ার। যে হাতিয়ার দিয়ে বাঙালি জয় করবে সকল পরাজয়কে।

ষোল কোটি বাঙালির আস্থা-বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করছেন শেখ হাসিনা। দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি, বঙ্গবন্ধুর পর বাঙালির কল্যাণের জন্য শেখ হাসিনার চেয়ে কেউ বেশী পরিশ্রম করেননি। শেখ হাসিনা আপন আলয়ের মতো সাজিয়েছেন এই জনপদকে। পুরো পরিবারকে হারিয়েও তিনি যেনো আছেন পরিবারের মাঝে। এ জনপদের গণমানুষই তাঁর পরিবার। আর তাই পরিবারের কর্তা হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন কর্তার মতো করেই।

পুরো বিশ্বে চলমান করোনা পরিস্থিতিতে অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা। পশ্চিমা দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আমাদের বাংলাদেশেও আঘাত করেছে করোনা ভাইরাস। ছড়িয়ে যাচ্ছে গ্রাম থেকে গ্রামে। আর এই পরিস্থিতিতে বসে নেই জননেত্রী শেখ হাসিনা। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েও পরিবারের অভিভাবকের মতো করে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এর মোকাবেলা করতে। আমাদের শেখ হাসিনা যেন চৌকস অলরাউন্ডার। তিনি শুধু করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় থেমে যাননি। তিনি করোনার কবলে অসহায় হয়ে পড়া মানুষদের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার ব্যাপারটাও তিনি গুরুত্বের সাথে ভেবেছেন। তিনি জানেন, করোনার চেয়েও ভয়ংকর হচ্ছে ক্ষুধা। যে মানুষগুলো দিন আনে দিন খায় সে মানুষগুলোর পাশে যেনো এক বিশাল মহীরুহ ছায়া দিচ্ছে। আর সেই মহীরুহই হচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি এসব অসহায় মানুষদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর উপহারস্বরূপ খাদ্য সামগ্রী। উল্লেখ্য, তিনি এ উপহারকে কখনোই ত্রাণ হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। তিনি মানেন এটি অসহায় মানুষদের অধিকার। তাই তিনি সম্মানের সাথে সেই অধিকার সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ৫০ লক্ষ পরিবারকে দিয়েছেন নগদ অর্থ সহায়তা। যেটা কেউ কখনো কল্পনাই করতে পারেনি। শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলার সম্মুখ যোদ্ধাদের জন্য দিয়েছেন আর্থিক স্বাস্থ্যবীমা। এমনকি গার্মেন্টসের শ্রমিকদেরও যথাসময়ে বেতন পরিশোধ করতে দিয়েছেন আর্থিক প্রণোদনা। শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পশ্চিমাদের কাছ থেকেও পেয়েছেন উষ্ণ অভিবাদন। আমেরিকার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’-এ ২২ এপ্রিল (২০২০) প্রকাশিত কানাডিয়ান লেখক অভিভাহ ভিটেনবারগ-কক্স রচিত “8 (More) Women Leaders Facing The Coronavirus Crisis” শীর্ষক প্রবন্ধে করোনা ভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা এক প্রচারবিমুখ প্রাণ। আত্মপ্রচার নয়, বরং আড়ালেই একা লড়ে যাওয়া মানুষ তিনি। ১৯৮৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণকে লেখা শেখ হাসিনার চিঠি এর অকাট্য দলিল। নির্মলেন্দু গুণ তখন এক দৈনিক পত্রিকায় কাজ করতেন। নির্মলেন্দু গুণকে শেখ হাসিনার লেখা চিঠিটি নিম্নরূপ:
‘বন্ধুবরেষু গুণ,
আপনার অনুরোধে কিছু ছবি পাঠালাম। তবে আমার একটা অনুরোধ রাখবেন। ‘ত্রাণ বিতরণ করছি’ এ ধরনের কোনো ছবি ছাপাবেন না। মানুষের দুর্দশার ছবি যত পারেন ছাপান। আমার ধারণা এ ধরনের অর্থাৎ ত্রাণ বিতরণের ছবি টেলিভিশন ও খবরের কাগজে দেখে দেখে মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে। ওরা গরিব, কিন্তু সেটা কি ওদের অপরাধ? একশ্রেণি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ না করত তাহলে এরা কি গরিব হতো? কার ধন কাকে বিলাচ্ছে? যা কিছু আছে সকলে মিলে ভাগ করে ভোগ করলে একের কাছে অপরের হাত পাতার প্রয়োজন হতো না। ওদেরই সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হয়ে আবার ওদেরই দুর্দশার সুযোগ নিয়ে সাহায্য দানের নামে হাতে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ইমেজ অথবা প্রতিষ্ঠা লাভের প্রয়াস আমি মানসিকভাবে কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমার বিবেকে বাধে। তবুও অনেক সময় পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে অনেক কিছুই করতে হয়। আমিও করি। বিবেকের টুঁটি চেপে ধরে অনেক সময় সমাজরক্ষার তাগিদে, সঙ্গীদের অনুরোধ বা অপরের মান রক্ষার জন্য এ ধরনের কাজ বা ছবি তুলতে হয় বৈকি। তবে যে যাই দান করুক না কেন, বিলি করুক না কেন, এটা তো ওই গরিব মানুষগুলোর অধিকার, তাদেরই প্রাপ্য। ক্ষমতার দাপটে কেড়ে নেওয়া ওদেরই সম্পদ অথবা ওদের পেটের ক্ষুধা দেখিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে ভিক্ষে এনে এদের দান করা। এখানে ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার সুযোগ কোথায়? এই ‘ক্রেডিট’ নিতে যাওয়াটা কি দুর্বলতা নয়? আত্মপ্রবঞ্চনা নয়? কতকাল আর বিবেককে ফাঁকি দিবে? এই গরিব মানুষগুলোর মুখের গ্রাস কেড়ে খেয়ে আবার এদেরই হাতে ভিক্ষে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ইমেজ তৈরির পদ্ধতি আমি পছন্দ করি না। আমি মনে করি, যা দান করব তা নীরবে করব, গোপনে করব। কারণ এটা লজ্জার ব্যাপার, গর্ব করার ব্যাপার মোটেই নয়। গর্ব করার মতো কাজ হতো যদি এই সমাজটাকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়া যেত। গর্ব করার মতো হতো যদি একখানা কাঙালের হাতও সাহায্যের জন্য বাড়িয়ে না দিত। ফুটপাথে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে ভিক্ষের হাত না বাড়াতে সেটাই গর্ব করার মতো হতো। যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখেছিলেন, সেদিন কবে আসবে? আমার অনুরোধ আপনার কাছে, সেই ছবি ছাপাবেন না যে ছবি হাত বাড়িয়েছে সাহায্য চেয়ে, আর সেই হাতে কিছু তুলে দিচ্ছি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে। অনেকেই তুলে থাকেন। আমার বড় অপরাধী মনে হয় নিজেকে। লজ্জা হয় গরিব মানুষদের কাছে মুখ দেখাতে। আমরা সমাজে বাস করি। দুবেলা পেট পুরে খেতে পারি। ভালোভাবে বাঁচতে পারি। কিন্তু ওরা কি পাচ্ছে? ওদের নিয়ে এ ধরনের উপহাস করা কেন? ওরা বরদাশত করবে না, একদিন জেগে উঠবেই সেদিন কেউ রেহাই পাবে না। আমার অনুরোধ আশা করি রাখবেন।
শুভেচ্ছান্তে,
শেখ হাসিনা
৯. ১০. ৮৮’।
শেখ হাসিনা নীরবে-নিভৃতে মানুষের কল্যাণে লড়াই করা এক চরিত্র। যিনি মানুষকে নিয়ে ভাবতেই ব্যস্ত। স্রোতের উল্টো পথে হেঁটে শিখেছেন, লক্ষ্য জয় করতে হলে পেরুতে হবে দুর্গম পথ। যে দুর্গম পথে তিনি পেরিয়ে আগলে রেখেছেন এই ব-দ্বীপকে। হোঁচট খেয়েছেন বহুবার, তবু ভড়কে যাননি। লক্ষ্য যখন মঙ্গলের, তখন ভয় কিসের? জয় করেছেন ভয়কে। নিজের এই পরিবারের ষোল কোটি সদস্যের জীবনযাত্রায় এনেছেন আধুনিকায়ন। থমকে যেতে শিখেননি তিনি। শিখেছেন কঠিন সময়েও মনোবলকে শক্ত রাখতে, মোকাবেলা করতে প্রতিটি বিপদের। জাতির এই ক্রান্তিকালেও মহীরুহের মতো দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এই জনপদের মানুষদের সকল সংকট-বেদনা-ক্ষরণের অবসান অনুরণিত হয় যেনো তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে।

মানুষের জন্য শেখ হাসিনার এই জীবন-সংগ্রাম যেনো নীল আকাশের চেয়েও প্রশস্ত-সুন্দর। যেনো এক মস্ত বড়ো জাহাজের সুনিপুণ নাবিক তিনি। যিনি অভয়ে সম্মুখ যোদ্ধা হয়ে লড়াই করেন সকল প্রতিকূলতার। যে লড়াই এক সুন্দর ঝলমলে সকালের প্রত্যয়ে। বিশ্বাস রাখি, সে দিন খুব কাছেই আমাদের।
আর তাই বলি, ‘ ও আলোর পথযাত্রী
এ যে রাত্রি, এখানে থেমো না! ‘

লেখক: সরকার মোঃ সব্যসাচী
সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন