শেবাচিম পরিচালক ডা. বাকির হোসেনের দুই বাড়ির মূল্য ১৭ কোটি টাকা

0
283

খাইরুল অালম রফিকঃ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। ঘুষ দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে বিলাশী জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ইতিপূর্বে সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এই প্রকল্পের কাজে তার বিরুদ্ধে, কেনাকাটায় দুর্নীতি অনিয়মসহ নানা কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলী করা হয়। সেখানে বেশিদিন থাকতে হয়নি তার। লোবিং করে গত বছরের ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহন করেন।

অভিযোগ উঠেছে, ঘুষ দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে বিলাশী জীবন যাপন করছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। এদুটি দায়িত্ব পালনের আগে থেকেই তার বিলাশ বহুল জীবন-যাপন। একজন পরিচালক এতো বিলাশি জীবন যাপন ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পরও কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কেন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ? এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের বগুড়া রোডে তিনি সারে ১২ শতাংশ জমি কিনে একটি ৬ তলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণ করেছেন। পাশাপাশি আরো একটি ৮তলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মাণাধীন।

নিজের ও তার স্ত্রীর নামে বাড়ি দুটি নির্মাণে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান। যদি বেতনের টাকায় এ দুটি বাড়ি নির্মাণ করেন তবে, কীভাবে কাটান, এমন বিলাসী জীবন। তা এক অপার রহস্য। এই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তার দুটি বিশাল বাড়ি নির্মাণের ঘটনায়।
১৭ কোটি মূল্যের দুটি বাড়ির ্ও প্রায় ৩০ লাখ টাকার গাড়ীর মালিক হলেন, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে বরিশাল ও পূর্বের কর্মস্থল সিরাজগঞ্জে। অভিযোগ রয়েছে, এ দুটি বাড়ি ছাড়াও রাজধানী ঢাকায়, তার গ্রামের বাড়িসহ বিভিন্নস্থানেও জমিজমা ও সম্পদ রয়েছে ।

সরেজমিনে, যে এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করছেন, সেখানকার এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৮ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে করা বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ করতে আরো কয়েক কোটি টাকার মতো ব্যয় হবে।

ডা. মো. বাকির হোসেনের এত সম্পদের পেছনে বড় ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল ও সিরাগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, যেহেতু তিনি সরকারি চাকুরিজীবি, সেহেতু তার সম্পদের বিষয়ে তদন্ত ভালোভাবে করতে হবে। মন্ত্রণালয়কেই এ বিষয়ে কাজ করতে হবে। তা ছাড়া একজন দুর্নীতিবাজ কখনই এককভাবে দূর্নীতি করতে পারে না। তার সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত থাকতে পারে।

এসব তদন্ত করে দুর্নীতিবাজদের সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি তাকে নজরদারির আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে অভিযোগ জমা দ্ওেয়া হয়েছে । এ ব্যাপারে ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, বেতনের টাকা দিয়েই বাড়ি নির্মাণ করেছি। অবৈধ কিছু করিনি।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন