শিরোনাম
ত্রিশালে কবি নজরুল’র জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্যান্ডেল প্রস্তুতে পরিদর্শনে ইউএনও ত্রিশালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলায় পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম’র জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত ত্রিশাল আ’লীগের বর্ষিয়ান নেতা ফজলে রাব্বী’র সহধর্মিণীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ নকলায় কাঠের সাকু ভেঙ্গে বটবটি উল্টে আহত তিন ত্রিশালের সাবেক এমপি’র মৃত্যু বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মেয়র আনিছ ত্রিশালে সয়াবিন তেল ও যানজট নিরসনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ত্রিশালে দলের জন্য যোগ্য নেতা খোঁজে পেল জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ আ’লীগ সরকার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে বললেন, মেয়র আনিছ শব্দশরের আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১ তম জন্মজয়ন্তী
শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১০:৫০ অপরাহ্ন

সদকাতুল ফিতর আদায়ের নিয়ম;যা জানা দরকার

রিপোটারের নাম / ১০৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২২

সদকাতুল ফিতর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ১২ টি মাসআলা যা জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

১/প্রশ্ন :সদকাতুল ফিতর কোন ব্যক্তির উপর ওয়াজিব?

উত্তর:
সদকাতুল ফিতরের নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যাঁর ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে এতে জাকাতের মতো বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল ক্বাদির : ২/২৮১)। এমনকি পবিত্র রমজানের শেষ দিনেও যে নবজাতক দুনিয়ায় এসেছে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার পক্ষ থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/১৯২)

২/প্রশ্ন:সদকাতুল ফিতর কি পরিমান আদায় করা ওয়াজিব?

উত্তর:
সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ : এর পরিমাণ সম্পর্কে শরিয়তে দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হচ্ছে ‘এক সা’ বা ‘নিসফে সা’। খেজুর, পনির, যব ও কিশমিশ দ্বারা আদায়ের ক্ষেত্রে এক ‘সা’=৩২৭০.৬০ গ্রাম (প্রায়), অর্থাৎ তিন কেজি ২৭০ গ্রামের কিছু বেশি। এ ছাড়া গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে ‘নিসফে সা’=১৬৩৫.৩১৫ গ্রাম বা ১.৬৩৫৩১৫ কেজি (প্রায়), অর্থাৎ এক কেজি ৬৩৫ গ্রামের কিছু বেশি প্রযোজ্য হবে। (আওজানে শরইয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৮)

খাদ্যের বদলে মূল্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় : রাসুল (সা.)-এর যুগে মোট চারটি পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো। খেজুর, কিশমিশ, যব ও পনির। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আমরা এক সা পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা পরিমাণ যব অথবা এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ পনির অথবা এক সা পরিমাণ কিশমিশ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (বুখারি, হাদিস : ১৫০৬)

৩/প্রশ্ন :সদকাতুল ফিতির কাকে দিব?

উত্তর: সদকায়ে ফিতির এবং যাকাত প্রদানের খাত একই।মোট ৮ ধরণের ব্যক্তিকে যাকাত ও ফিতরা দেয়ার কথা কুরআনে বর্ণিত। যার বিবরণ যাকাতের আলোচনায় করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব খাতে যাকাতের টাকা খরচ করা হয় সেসব খাতে সাদকায়ে ফিতর খরচ করতে হবে। (ফাতাওয়া শামী ৩/৩২৫)

৪/প্রশ্ন:সম্পুর্ণ ফিতরা একজন কে দেওয়া যাবে কি?

সম্পূর্ণ ফিতরা একজনকে কী দেওয়া যাবে? একজনের ফিতরা একজন ফকীরকে দেওয়া উত্তম। একজনের ফিতরা কয়েকজন ফকীরকে বন্টন করে দেওয়া কমপক্ষে মাকরূহে তানযীহী।

তবে কয়েকজনের ফিতরা একজনকে দেওয়া জায়েজ আছে কোন অসুবিধা নেই । (ফাতাওয়া শামী ৩/৯২১,মাসাইলে রোযা ১৯০ পৃ: দারুল উলুম ৬/৩২৫)

৫/প্রশ্ন:টাকা দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে কি?

উত্তর:হ্যা টাকা দিয়েও সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে।জুহাইর (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু ইসহাক (রহ.) থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, আমি সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে এই অবস্থায় পেয়েছি যে তারা রমজানে সদকাতুল ফিতর খাবারের বিনিময়ে টাকা দ্বারা আদায় করতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ১০৪৭২)

এই হাদিসের সনদ বিশুদ্ধ তথা প্রমাণযোগ্য

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, টাকা দ্বারা সাদাকায়ে ফিতর আদায় করাতে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ১০৪৭১)।

৬/প্রশ্ন:কখন সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব?

উত্তর:সদকাতুল ফিতরের সম্পর্ক রোযার সাথে। ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় হতে সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়। কাজেই রোযা পালন শেষে ঈদের খুশিতে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমানের পরিবারের প্রতিটি সদস্য এমনকি ঈদের দিন সুবহে সাদেকের পূর্বে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তার পক্ষ থেকেও তা আদায় করা ওয়াজিব। (ইলমুল ফিকহ ৪/৫১,দারুল উলুম ৬/৩১৩ কিতাবুল ফাতাওয়া ৩/৩৫৪)

৭/প্রশ্ন নাবালিগ সন্তানের সদকাতুল ফিতর পিতার আদায় করা কি ওয়াজিব?

উত্তর:না-বালিগ সন্তান নিজে মালিকে নিছাব না হলে তার পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা পিতার উপর ওয়াজিব। আর সে যদি মালিকে নিছাব হয়,তাহলে তার মাল থেকে সাদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে।(শরহে বেকায়া ১খন্ড সাদকায়ে ফিতর অধ্যায়)

৮/প্রশ্ন:স্ত্রীর সদকাতুল ফিতর স্বামীর জন্য আদায় করা কি ওয়াজিব?

স্ত্রীর সাদকায়ে ফিতর স্বামীর উপর ওয়াজিব নয়। তবে স্ত্রীর পক্ষ থেকে আদায় করে নিলে আদায় হয়ে যাবে । এতে অনুমতি নিয়ে হোক বা না হোক। (হিদায়া ১/২০৯,দুররে মুখতার ৩/৩৮৫)

৯/প্রশ্নঃ চাউল দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে কি?

উত্তর:
চাউল দ্বারা সাদকায়ে ফিতর: যদি কেউ কৃষিজাত ফসল যেমন ধান-চাউল ইত্যাদি দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চায় তাহলে এতে ওজন গ্রহনযোগ্য নয়; বরং এক্ষেত্রে মূল্য বিবেচ্য হবে। অর্থাৎ এক ছা’ খেজুর বা আধা ছা’ গমের বাজার দর যা আসে সে মূল্যের ধান-চাউল আদায় করতে হবে। (দুররে মুখতার ৩/৩১৯,ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১০৮)

রামাজানে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা? রামাজান মাসে ঈদের দিনের আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েজ আছে। চাই তা রামাজানের যে কোন দিনেই হোক না কেন। (দারুল উলুম ৬/৩০৫)

১০/প্রশ্ন:প্রবাসীরা কোন দেশ হিসেবে সদকাতুল ফিতর আদায় করবে?

উত্তর:
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশ প্রবাসী কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চান তাহলে যে দেশে অবস্থান করছেন সেখানকার মূল্য হিসাবে তিনি ফিতর আদায় করবেন। এটাই অতি বিশুদ্ধমত । তবে হ্যা বাংলাদেশের মূল্য ধরে দিলেও দেয়া যাবে তা বৈধ আছে। প্রবাসীদের জন্য উত্তম হলো যে দেশের মূল্য হিসাব করা হলে সাদাকা গ্রহণকারী গরীব মিসকিন প্রমূখদের উপকার বেশি হবে সেখানকার মূল্য বিবেচনা করা।তাই তাদের জন্য যে যেই দেশে অবস্থান করছে সেই দেশের হিসেব অনুযায়ী সদকাতুল ফিতর প্রদান করা।
আদ্দুরুল মুনতাকা ১/২২৬, বাদায়েউসসানায়ে২/৫৪৭,ফাতাওয়ারাহিমিয়া৭/১৯৪,১৯৫,দারুল উলুম ৬/৩০৬)

১১/প্রশ্ন:যেই ব্যক্তি বা বাচ্চা রোজা রাখেনি তার জন্যেও কি সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে?

উত্তর:
যে রোযা রাখেনি তার উপরও সাদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে যদি সে মালিকে নেসাব থাকে নির্ধারিত সময়ে। (বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৫, ফাতাঃআলমগিরী ১/১৯২ সদকায়ে ফিতর অধ্যায়)

১২/প্রশ্নঃ সদকাতুল ফিতর কোনদিন আদায় করা উত্তম?

উত্তর: উত্তম হল ঈদের নামাযের আগে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা । এসময় যদি আদায় না করা হয়,তবে পরে যখন ইচ্ছা আদায় করতে পারবে। পরে যখনই তা আদায় করা হবে আদায় বলে গণ্য হবে,কাযা বলা যাবেনা । (বাদায়ে উস সানায়ে ২/৫৪৬)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল কে আমল করার তাওফিক করুন আর আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা কে কবুল ও মঞ্জুর করে নিক।আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

লেখক : মুফতি আমির হামজা সিদ্দিকী শেরপুর মোমেনশাহী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ