১৪ ই ফেব্রুয়ারী- বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও আমার কিছু কথা।

0
423

ভালবাসার ধরনে পরিবর্তন..
’’তুমি এত দিন পরে গ্রামে আইলা আবার একদিন থাইকাই চইলা যাইবা ,গত শুক্রবারে ভাবছিলাম তুমি আইবা তাই আগের দিন ভোরে মিয়া বাড়ির বকুল গাছ থেকে বকুল ফুল কুড়ায়া আনছিলাম যার মালাটা শুকা্ইয়া কাঠ হইয়া গেছে ,অনেক কষ্ট লাগছিলো তাই আর মালা গাথতে পারিনাই-আসলে কি করবো সামনে পরীক্ষা পড়ার চাপ বেশি তাই একটু কম কম বাড়ি আসি তাছাড়া বেশিদিন হলে তো তোমাকে চিঠি দেই তাইনা’’ কথাগুলো গ্রামবাংলার পুরোনো প্রেমের কাহিনীস্বরুপ।কতই না মজার ছিল সেই ভালবাসাগুলো একটি চিঠির অপেক্ষায় মাসের পর মাস বসে থাকা প্রেমিক প্রেমিকার যেন অধৈর্য্য নেই, নেই কোন অবিশ্বাস।কতই না সুখময় ছিল সেই মূহুর্তগুলো যখন প্রেমিকা কাপড় কাচার ছলে পুকুরঘাটে যেত দূরে দাড়িয়ে থাকা প্রিমিকের দৃষ্টিঘোচর হওয়ার জন্য আর এতেই প্রেমিকযোগল স্বর্গ সুখে পতিত হত।অথচ আজ প্রেমের ধরনে পরিবর্তন ঘটেছে।আজ ভালবাসা মানে এক নজর দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়,আজ প্রেম মানেই চিঠিপত্রের আদান প্রদান নয়।আজ ভালবাসার মানে ফেইসবুকিং ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে কথা বলা অতপর ভিডিও কলিং এর মাধ্যমে অবস্থান দেখা ।তারপরও ভালবাসায় থাকে এক রাশ অবিশ্বাস,সীমাহীন তৃষ্ঞা।যা শুধু দেখার মধ্যে শান্তি খোজে পায়না যা শুধুমাত্র চিঠিবিনিময়ের মাধ্যমে ‍সুখে বিমহিত হওয়া যায় না কেননা এই ভালবাসায় তো পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে আজ আমরা ভালবাসা মানে শুধু একটি দিনের ফুল বিনিময়কেই বুঝে থাকি,আজ আমরা প্রেম মানে একটি বিশেষ দিনে বিশেষ নারীকে নিয়ে রিকসায় অথবা পার্কের ঝুপঝাড়ে ঘুরে বেড়ানোটাকে বুঝে থাকি ,আজ তো আমরা ভালবাসাকে দৈহিক মিলনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকি,আজ স্বর্গীয় ভালবাসাটাকে পালাক্রমে ধর্ষন এর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করে থাকি।একজন অসহায় বিধবাকে বিয়ে করতে আমাদের বিবেক বাধা দেয় অথচ প্রেমের নামে পরকীয়ার সাথে জড়িত হয়ে চার বাচ্চার মাকে নিয়ে পালিয়ে যাই ।আসলে আমরা ভালবাসা নামক পবিত্র শব্দটাকে কলুষিত করে ফেলেছি।আমরা মা বাবার ফোন পেয়ে রিসিভ করতে চাই না অথচ তাতে মৃত্যুর সংবাদও থাকতে পারতো পক্ষান্তরে প্রেমিকার মুখের গালি শুনতেও হাজারবার ফোন দিয়ে থাকি ।আজ তো আমরা ভুলেই গেছি যে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা প্রেমালাপ হতে পারে,দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আজ স্বামী তার নিজ স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে পছন্দ করে না ।ভালবাসা দিবস মানে প্রেমিক প্রেমিকার ঘুরেবেড়ানোকে বুঝে থাকি অথচ এই ১৪ই ফেব্রুয়ারীর ইতিহাসের জন্ম বিয়ে নিয়ে।

‘২০০ খ্রিস্টাব্দে রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস দেশে বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকে কোনও যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধুই যুদ্ধ। তার মতে, যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা?সম্রাট ক্লডিয়াসের এ অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদ করেন এক যুবক। যার নাম ভ্যালেন্টাইন। অসীম সাহসী এযুবকের প্রতিবাদে খেপে উঠেছিলেন সম্রাট।রাজদ্রোহের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাকে।১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা মাথা কেটে ফেলা হয় তার।ভালোবাসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তখন থেকেই এ দিনটিকে পালন করা হয় ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে’। ।

আর আল্লাহ বলেন ’তোমাদের জন্য স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার ভালবাসা বা মিলনকেই আমি বৈধ করেছি’।সুতরাং আসুন না মহান স্রষ্টার শাস্তির ভয়ে,মহা বিচার দিবসে জবাবদিহীতার ভয়ে ভালবাসার সাথে নব্য যুক্ত হওয়া পরকীয়াসহ সকল অবৈধ সম্পর্কটাকে দূরে রাখি। আজ ভালবাসা দিবসে স্ত্রীর জন্য একটি গোলাপ নিয়ে বলি তোমার সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত খারাপ আচরনের জন্য ক্ষমা চাই আর কখনো খারাপ আচরন করবো না ,আসুন না এই দিবসটাকে সামনে রেখে প্রতিজ্ঞা করি আর কখনো মা বাবার সাথে দুর্ব্যবহার করবো না তাদের চাওয়াগুলোকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করবো।প্রিয় মানুষদের সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হোক এই ভালবাসা দিবস, ১৪ই ফেব্রুয়ারীর গোলাপের গন্ধে ভরে যাক সমগ্র পৃথিবী ।শুভ হোক ভালবাসা দিবসের।
—————————————-
আজাহারুল ইসলাম আজাহার
সম্পাদক -দৈনিক পল্লী সংবাদ।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন