৭ ই মার্চের ভাষনই-প্রকৃত স্বাধীনতার ডাক

0
453

১৯৭০ সালে আওয়ামীলীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাষক গোষ্টী আওয়ামীলীগের নিকটে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করে।উক্ত পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। আবার ভুট্টোর অযৌক্তিক আবেদনে অপ্রত্যাশিত ভাবে ১ মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মূলতবি করেন। এই সংবাদে পূর্ব বাংলার জনগন বিক্ষোভে ফেটে পরলে আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ২ মার্চ ঢাকায় ও ৩ মার্চ সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ পূর্বক সমগ্র পূর্ব বাংলায় অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়।
উক্ত পটভুমিতে ১৯৭১ সনের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসমুদ্রে যুগযুগান্তরের ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষন প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। “আর যদি একটি গুলি চলে তাহলে বাংলার ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলবে,যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে,রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিতে হবে,প্রতিটি গ্রামে মহল্লায় আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গড়ে তুলুন,রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দিব তবুও এ দেশকে মুক্ত করেই ছাড়বো,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”।একটা যুদ্ধের ক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ, প্রতিটি গ্রাম মহল্লা পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটি গঠনের নির্দেশ, অফিস আদালত বন্ধের নির্দেশ এর চেয়ে সুন্দর স্পষ্ট যুদ্ধের ঘোষনা কি অন্য কোনভাবে হতে পারে?
অথচ দু:খের সাথে বলতে হয় আজ একটি মহল স্বাধীনতার ঘোষনাকে জড়িয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ।
আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো শুধু কি ঐ রেডিও বার্তায় একটি ঘোষনার মধ্যেই প্রকৃত স্বাধীনতা ঘোষনা হয়ে গেল?———-
শুধু কি একটি ঘোষনা আমি মেজর জিয়া বলছি এর সাথে সাথেই বাংলার নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ কিশোর,নিজের জীবন বাজি রেখে যোদ্ধের জন্য বের হয়ে পড়লো?শুধু কি একটি ঘোষনাপত্র পড়ার মধ্যেই বাংলার হিন্দু, মুসলিম এক হয়ে যুদ্ধে নেমে পড়লো?হ্যা সেই সংকটময় মূহুর্তে বাংঙ্গালী আর্মি পারসনের স্বাধীনতার সম্মতিতে বাংঙ্গালীদের পাশে থাকার ঘোষনা অসহায় বাংঙ্গালীদের উজ্জিবিত করে।তবে এর নাম স্বাধীনতার ঘোষনা না কেননা স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য প্রাণ দিল বাংলার বীর সন্তানেরা,১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়েও ক্ষমতায় বসতে না পারার জিদ,১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারীর মাধ্যমে বাঙ্গালীদের গোলাম বানানোর স্মৃতি।বাঙ্গালীদের তীলে তীলে তারা নানাভাবে শোষন করার প্রেক্ষিতেই বাঙ্গালী সাহস পায় তাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবের নির্দেশনায়।আর তাইতো ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক সেই ভাষনের পরদিন থেকেই ঢাকার বিভিন্ন বাসায় স্বাধীনতার পতাকা উরতে দেখা যায়।অনেক বাংঙ্গালী পুলিশ ৭ই মার্চের ভাষনের পর থেকেই বিদ্রোহ করে।
আমি মনে করি জাতির জনকের সেই ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনের মধ্যেই প্রকৃত স্বাধীনতার ডাক দেওয়া হয়।
সর্বোপরি শহীদ সোহরাওয়ার্দী যেখানে ব্যর্থ হয়েছে,মাওলানা আব্দুল হামিদ খান যেখানে এতটুকু এঘুতে পারেনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেখানে বাঙ্গালী হিন্দু, মুসলিম, যুবক বৃদ্ধ, কৃষক শ্রমিক, পুরুষ মহিলা,জেলে তাতী,কামার কুমার,পুলিশ আনসার সকলকে নিয়ে স্বাধীনতা এনেছেন।আজ ৭ই মার্চে শ্রদ্ধাভরে স্মরন করি বাংলার স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

আজাহারুল ইসলাম আজাহার
সাংবাদিক,কলামিস্ট।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন